ঐতিহ্যের চেতনায় উজ্জীবিত

Breaking News বিশেষ_ঘোষণা...

সারিয়াকান্দি সংবাদ এর পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ

Sunday, 27 September 2026

সারিয়াকান্দিতে ডোবা পেরিয়ে স্কুলে যাচ্ছে ৮০ জন শিক্ষার্থী: প্রয়োজন একটি টেকসই সেতু‎

সারিয়াকান্দিতে ডোবা পেরিয়ে স্কুলে যাচ্ছে ৮০ জন শিক্ষার্থী: প্রয়োজন একটি টেকসই সেতু
‎
সুমন সাহা, ‎সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি:
‎বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত কুড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যমুনা কুলঘেঁষা এই দুর্গম এলাকার প্রায় ৮০ জন কোমলমতি শিশু প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে একটি ডোবা পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে ছোট ছোট এসব শিশুরা প্রতিনিয়ত নানা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনাতীরের এই দুর্গম জনপদের শিশুদের বিদ্যালয়ে পৌঁছানোর একমাত্র পথের মাঝেই রয়েছে এই বিপজ্জনক ডোবাটি। শুষ্ক মৌসুমে অভিভাবক বা শিক্ষকদের সহায়তায় কোনো মতে পার হওয়া গেলেও, বর্ষা মৌসুমে ডোবাটি পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ফলে পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের পোশাক এবং বই-খাতা ভিজে নষ্ট হচ্ছে। মাঝেমধ্যেই পা পিছলে পানিতে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা।
‎দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অভিভাবকরাও সন্তানদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। ফলে দিন দিন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।
‎
‎এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোমিনুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে আসার পথে কোনো ব্রিজ না থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিশেষ করে প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী প্রবল বিপদের সম্মুখীন হয়। বর্ষা মৌসুমে বা পানির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটলেই শিশুরা স্কুলে আসতে পারে না বাধ্য হয়ে অভিভাবকদের সহায়তায় তাদের যাতায়াত করতে হয়। এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত কষ্ট করে নৌকা বা ভেলায় চড়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে।
‎ চলতি বছরে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বিদ্যালয়ের দুই পাশের মাটি ভেঙে গিয়ে পরিবেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
‎ বিদ্যালয়ের চারপাশ উন্মুক্ত থাকায় শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয় ভবনের সার্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। 
এবিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার ‎বলেন,আমাদের বন্যার সময় কষ্ট হয়। আমরা একটা ব্রিজ চাই। বই-খাতা ভিজে যায়, আমরা যেতে পারি না।
‎
কাজলা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক সঞ্জু মিয়া বলেন, ‎বর্ষা ও বন্যার সময়ে স্কুলে পানি জমে থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে আসতে পারে না।সম্প্রতি একদিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারনে স্কুলের দুই পাশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন আশঙ্কাজনক যে, এমন মুষলধারে বৃষ্টি হলে সম্পূর্ণ স্কুল ভবনটি বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
‎
‎ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ক্ষোভ ও আকুতি প্রকাশ করে বলেন, "প্রতিদিনই চরম আতঙ্কে থাকি, কখন বাচ্চাটা পানিতে পড়ে যায়! এখানে সামান্য একটি টেকসই সেতু তৈরি করে দিলেই আমাদের সন্তানদের স্কুলে যাওয়ার চিরদিনের ভোগান্তি শেষ হয়ে যেত।

‎বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মোঃ মাহাতাবুর রহমান জানান, "প্রধান শিক্ষক আমাকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। আমি তাঁর কাছে ছবি ও লিখিত আবেদন চেয়েছি। আবেদনটি পাওয়া মাত্রই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর পাঠাব। আশা করছি খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।
‎

‎স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, যমুনাতীরের এই অবহেলিত জনপদের শিক্ষার মান ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং কোমলমতি শিশুদের জীবন রক্ষা করতে অবিলম্বে ওই ডোবার ওপর একটি টেকসই সেতু বা কালভার্ট নির্মাণ করা জরুরি। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Your Ad Spot

Pages