ঐতিহ্যের চেতনায় উজ্জীবিত

Breaking News বিশেষ_ঘোষণা...

সারিয়াকান্দি সংবাদ এর পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ

Thursday, 22 January 2026

সারিয়াকান্দির ঐতিহ্যবাহী হাট নানা ধরনের জটিলতায় আগের জাঁকজমক হারিয়েছে

সারিয়াকান্দির ঐতিহ্যবাহী হাট নানা ধরনের জটিলতায় আগের জাঁকজমক হারিয়েছে 

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়া সারিয়াকান্দির ঐতিহ্যবাহী হাট নানা ধরনের জটিলতায় আগের জাঁকজমক হারিয়ে ফেলেছে। বগুড়া জেলার অন্যতম একটি প্রাচীন হাট সারিয়াকান্দি হাট। শনিবার এবং মঙ্গলবার দুইদিন হাটবার। অপরিকল্পিত হাটশেডের কারনে নষ্ট করেছে হাটের সৌন্দর্য। কৃষিপণ্য, ঘাস, দুধ এবং হাঁস মুরগী বিক্রি হচ্ছে রাস্তার উপর।
মূল হাটের ভেতরে উপজেলা ভূমি অফিস ভবন এবং হাটের নির্দিষ্ট স্থান না থাকায়
এ উপজেলার উৎপাদিত হাজার কোটি টাকার কৃষিপণ্য বিক্রি হচ্ছে সিরাজগঞ্জের লাঠুয়াপাড়া, মাদারগঞ্জের বালিজুরি হাটসহ বিভিন্ন জেলার হাটে।
 আগের জাঁকজমকপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী হাট ফেরানো এবং রাস্তার পাশের পরিবর্তে নির্দিষ্ট বিক্রয়স্থান চান এলাকাবাসী।

 প্রাচীনকাল থেকেই প্রতি সপ্তাহে দুই হাটবারে পৌর এলাকা হাটুরেদের সরগরমে মুখরিত হয়ে থাকতো। কোটি কোটি টাকার কৃষিপণ্যসহ নানা ধরনের পণ্য হাটে বেচাকেনা হতো। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত এবং উন্নয়নের নামে জটিলতায় হাটটি তার আগের জৌলুস হারিয়ে ফেলেছে। গত কয়েকবছর আগে হাটের দক্ষিণ পাশে একেবারে হাটের মাঝে স্হাপন করা হয়েছে উপজেলা ভূমি অফিস ভবন। অফিসটি স্হাপন করার পর থেকেই এ হাটের সৌন্দর্য একেবারেই নষ্ট হয়েছে। এতে একদিকে যেমন হাটটি সংকুচিত হয়েছে এবং অপরদিকে এখানে বসে ব্যবসা করা ব্যবসায়ীরাও তাদের দোকানপাট হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এলাকাছাড়া হয়েছেন। এদিকে হাটের মাঝখানে ভবনটি হওয়ার কারণে, ভবনে হাটুরেদের ভীড়ে কর্মরত কর্মকর্তাগণ অনেক কষ্টে ভীড় ঠেলে ভবনে যাতায়াত করছেন। হাটের উন্নয়নের নামে গত ২০২২ সালে উত্তর পাশের বিশাল এলাকাজুড়ে নির্মাণ করা হয়েছে দ্বিতীয় সারিয়াকান্দি বাজার মার্কেট ভবন। যার নীচতলা উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং দোতলা সবসময় তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকে। নীচতলার বিশাল এলাকাজুড়ে মাত্র ৩ টি মিষ্টির দোকান এবং ২ টি পানের দোকানের সংস্থান হয়েছে। যেখানে বেচাকেনার হার একেবারেই কম। তাই এলাকাবাসী বলছেন হাটের অর্ধেক জায়গা দখলকারী এ বাজার মার্কেট ভবন শুধুমাত্র সরকারের অর্থ অপচয় করেছে এবং হাটের জায়গা গিলে খেয়ে হাটটিকে দখল করে নষ্ট করে দিয়েছে। এদিকে হাটের পূর্ব পাশে পাবলিক মাঠের পাশে বেশকিছু দোকানপাট গড়ে উঠেছিল বহুদিন আগে থেকেই। সেখানে প্রায় ২০ টি দোকানিরা তাদের ব্যবসা খুবই ভালোভাবে পরিচালনা করে আসছিলেন। কিন্তু হাটশেড নির্মাণের নামে গত কয়েকবছর আগে দোকানিদের উচ্ছেদ করে সেখানে একতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। যা দীর্ঘ কয়েকবছর অতিবাহিত হলেও এর নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এটিও হাট ধ্বংসের কারণ হিসেবে মনে করছেন এলাকাবাসী। উপজেলার পাবলিক লাইব্রেরি অ্যান্ড ক্লাবের মাঠে প্রায় প্রাচীনকাল থেকেই ধান, পাট, মরিচসহ নানা ধরনের কৃষিপণ্যের জমজমাট হাট বসতো। কিন্তু পাবলিক মাঠে খেলাধুলার জন্য কৃষিপণ্য বেচাকেনা বন্ধ করে দেয়া হয়। এদিকে কৃষিপণ্য বেচাকেনার জন্য কোনও নির্দিষ্ট বিক্রয়কেন্দ্র নির্ণয় করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে একেবারে বাধ্য হয়েই কতিপয়  কৃষকেরা থানার সড়কের দুইপাশে কৃষিপণ্য বিক্রি করতে নিয়ে আসেন। এখানে স্হান সংকুলানের জন্য বেশিরভাগ কৃষকরা তাদের কৃষিপণ্য আর হাটে তুলছেন না। তারা তাদের উৎপাদিত হাজার কোটি টাকার কৃষিপণ্য পাশের সিরাজগঞ্জ জেলার লাঠুয়াপাড়া হাটসহ বিভিন্ন হাটে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে সারিয়াকান্দি উপজেলার কৃষকেরা একদিকে যেমন বেশি ভাড়া দিয়ে কৃষিপণ্যের বাজারজাত করছেন, অপরদিকে সারিয়াকান্দি পৌরসভা হারাচ্ছে রাজস্ব। এদিকে হাটের ভেতরে স্হান সংকুলান হওয়ায় হাঁস মুরগী এবং কবুতর বিক্রয় হচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনের সড়কে। সড়কে হাঁস মুরগী বেচাকেনার জন্য সড়কটি দিয়ে হাটবারে যানবাহন চলাচল করতে খুবই সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া স্হান সংকুলান হওয়ায় কারনে প্রতিদিন সকাল এবং বিকালে দুধের বাজারও বসছে উপজেলা ভূমি অফিস সংলগ্ন সড়কের দুইপাশে। এদিকে স্হান সংকুলানে ঘাস বেচাকেনা গত কয়েকবছর ধরেই মাদ্রাসার একটি পতিত জায়গায় চলতো। কিন্তু মাদ্রাসা সম্প্রতি জায়গাটিতে কাটাতারের বেড়া দিয়ে গাছ রোপণ করেছে। ফলে সরকারি স্কুলের একটি পতিত জায়গায় এখন ঘাস বেচাকেনা হচ্ছে। 

সারিয়াকান্দি বাজারের বীজ ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম উজ্জ্বল বলেন, প্রতি বছর উপজেলায় ধান, পাট, মরিচ, ভুট্টাসহ নানা ধরনের প্রায় হাজার কোটি টাকার কৃষি ফসল  সারিয়াকান্দিতে উৎপাদিত হয়। কিন্তু সারিয়াকান্দিতে ভালো কোনও বিক্রয় কেন্দ্র না থাকায় ফসলগুলো কৃষকরা অধিক ভাড়া দিয়ে সিরাজগঞ্জের লাঠুয়াপাড়া হাটে বিক্রি করতে নিয়ে যান। 

সারিয়াকান্দি বণিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ফুল জানান, সারাদেশের ন্যায় গত সরকারের সময় উন্নয়নের নামে হরিলুট হয়েছে। গত পৌরসভার মেয়রও এমপির সাথে যোগসাজশে হাটের উন্নয়নের নামে হাটের ভেতরে অপরিকল্পিত বিভিন্ন ধরনের পাকা স্হাপনা নির্মাণ করেছে এবং নিজেরা লাভবান হয়েছে। অপরদিকে এতে হাটের জায়গা কমে হাটটি নষ্ট হয়েছে। হাটটির আগের গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং কৃষিফসল সহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের নির্দিষ্ট বিক্রয়কেন্দ্র চালু করতে পৌর কর্তৃপক্ষের নিকট আমি জোর দাবি জানাচ্ছি। 

সারিয়াকান্দি উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও পৌর প্রশাসক আতিকুর রহমান জানান, ইতিপূর্বে সারিয়াকান্দি হাটের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে পৌরসভার বিভিন্ন সভায় আলোচনা করা হয়েছে। হাটটিকে ঢেলে সাজাতে এবং বিভিন্ন পণ্যের নির্দিষ্ট বিক্রয়কেন্দ্র চালু করতে আমাদের প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। 

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad

Your Ad Spot

Pages